সুগার ড্যাডি কি?
সুগার ড্যাডি হচ্ছেন সেই সব লোক যারা অল্প বয়সী মেয়েদের অর্থনৈতিক ভাবে সহায়তা করে থাকে এবং বিনিময়ে সেই সব অল্প বয়সী মেয়েদের সঙ্গ উপভোগ করে। এদেরকে এসব মেয়েদের প্রেমিক ও বলতে পারেন। এই উপভোগ করা অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক সম্প্রক পর্যন্ত গড়াতে পারে। এক্ষেত্রে মেয়েদের বয়সের তুলনায় প্রেমিকদের বয়স অনেক বেশি হয়। সাধারণত একজন বুড়া লোক তার মেয়ের বয়সী কিংবা নাতনীর বয়সী মেয়ের সুগার ড্যাডি হন। যেহেতু মেয়ের তুলনায় প্রেমিক প্রায় বাবার বয়সী তাই তাদের নাম দেয়া হয়েছে সুগার ড্যাডি। এমন ভাবে সুগার মাম আছেন যারা হলেন বয়স্ক মহিলা এবং তারা টাকার বিনিময়ে অল্প বয়সী ছেলেদের পড়ালেখার খরচ, হাত খরচ সহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটান। বিনিময়ে সেসব অল্প বয়সী ছেলেরা সুগার মামদের সঙ্গ দিয়ে থাকেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে এই সংস্কৃতি ইতিমধ্যে আমাদের বাংলাদেশের মধ্যেও চালু হয়ে গেছে।
আমেরিকার ভিলিনোভা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বৃত্তি পাওয়ার পরও আইনে স্নাতক হওয়ার পাঠক্রমের প্রথম বর্ষের টিউশন ফি এবং আনুষাঙ্গিক খরচই প্রায় ৫০ হাজার ডলার। খরচের এমন বহর হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রীকেই দেনার দায়ে ডুবে যেতে হয়। আবার অনেকেই দেনা না করেই দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশুনো। কিন্তু কিভাবে দেনা না করেই পড়াশুনো চালাচ্ছে 'অনেকেই'?
এইসব ছাত্রছাত্রীরা যারা দেনা করছেন না অথচ লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তারা আসলে এক বা একাধিক 'সুগার ড্যাডির' সাহায্য পাচ্ছেন।
'সুগার ড্যাডি' এই শব্দবন্ধের সঙ্গে কি আপনার পরিচয় আছে? না থাকলে করে নিন এবার। 'সুগার ড্যাডি'-রা হলেন সেইসব পুরুষ যারা এককালীন বা নিয়মিত বিরতিতে টাকা খরচ করেন তাদের 'সুগার বেবি', অর্থাৎ কম বয়সী মেয়েদের সঙ্গ পেতে।
এরকমই জানাচ্ছেন, সিকিং অ্যারেঞ্জমেন্ট ডট কম নামক একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটি 'সুগার ড্যাডি' ও 'সুগার বেবি'দের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে।
ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা ব্র্যান্ডন ওয়েড জানাচ্ছেন, প্রথম দিকে তাঁরা ছাত্রীদের কথা ভেবে এই ওয়েবসাইটটি তৈরী করেননি। কিন্তু পরে দেখা গেল বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা এখানে নাম লেখাচ্ছেন। বর্তমানে এই ওয়েবসাইটটির মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৯ লক্ষ আর তার এক তৃতীয়াংশই ছাত্রছাত্রী। পরিস্থিতি দেখে ওয়েবসাইটটির কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে চাঁদা (সাবসক্রিপশন ফি) মওকুফ করে দিয়েছেন। যদিও 'সুগার ড্যাডি'দের এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করার জন্য মাসে ১৮০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হয়।
আমেরিকার বিভিন্ন শহরে জীবন ধারণের মান এতটাই উঁচু যে খরচের পরিমানও অনেক। ফলে সেখানে পড়াশোনো এবং থাকা খাওয়ার জন্য যে ছাত্রছাত্রীরা হামেশাই অর্থ সংকটে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। আর তাই 'সুগার বেবি' ও 'সুগার ড্যাডি'রা পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠছে সহজেই। একদিকে অর্থের হাতছানি আর অন্যদিকে মোহিনী মায়া।
তবে সমালোচকরা এই ব্যবস্থাকে "যৌন ব্যবসার নামান্তর" বললেও, ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটা একটা "সহায়ক ব্যবস্থা"।
No comments