Header Ads

Header ADS

ভাষা ও উপভাষা

প্রশ্ন ::ভাষা কাকে বলে ?
উত্তর::
বাগ যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত কতগুলি অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টির বিধিবদ্ধ রূপের দ্বারা যখন কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী পারস্পারিক ভাব বিনিময় করে থাকে তখন তাকে ভাষা বলে । অর্থাৎ, ভাষা হল কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের একটি নিরাকার ব্যবস্থা।

প্রশ্ন ::বর্তমানে পৃথিবীতে সরকারি স্বীকৃত ভাষার সংখ্যা কত?
উত্তর::
প্রায় আট হাজার।

প্রশ্ন:: উপভাষা কাকে বলে
উত্তর::
একই ভাষা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ভাষার মধ্যে অঞ্চলভেদে দৈনন্দিন কথাবার্তা বা ব্যবহারিক কাজে যে ধ্বনিগত, রূপগত ও বিশিষ্ট বাগধারাগত  পরিবর্তন ও পার্থক্য দেখা যায় সেই পরিবর্তিত ভাষাকে উপভাষা বলে।

প্রশ্ন ::বাংলা ভাষার উপভাষা সংখ্যা কয়টি ও কি কি?
উত্তর::
পাঁচটি, ১) রাঢ়ী উপভাষা ,2 ) বঙ্গালী উপভাষা, 3) বরেন্দ্রী উপভাষা ,4) কামরুপি বা রাজবংশী উপভাষা,  5) ঝাড়খন্ডী উপভাষা।

মধ্য পশ্চিমবঙ্গ তথা রাঢ় অঞ্চলের উপভাষা হল
রাঢ়ী। রাঢ় অঞ্চলের অবস্থান হল বীরভূম ,বর্ধমান, পূর্ব বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা ,হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর।

দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গ ঝাড়খন্ড ও বিহারের কিছু 
অংশ নিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উপভাষা হল ঝাড়খন্ডী। মোটামুটি ভাবে সাঁওতাল পরগনা, পশ্চিম বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ,দক্ষিণ- পশ্চিম বাঁকুড়া ,পুরুলিয়া, দক্ষিণ- পশ্চিম মেদিনীপুর ,ধলভূম, মানভূম ,সিংভূম অঞ্চলে এই উপভাষার প্রচলন । ভাষাবিজ্ঞানীদের অভিমত অনুসারে ,বাংলার দক্ষিণ- পশ্চিম সীমান্তে প্রায় আড়াই হাজার বর্গমাইল জুড়ে এই উপভাষাটি প্রচলিত।

উত্তর- মধ্য বঙ্গ তথা মালদাহ ,দক্ষিণ দিনাজপুর
এবং পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ )রাজশাহী, পাবনা ,বগুড়া ইত্যাদি অঞ্চলের উপভাষা হল বরেন্দ্রী।
পশ্চিমবঙ্গের উপভাষা রাঢ়ী এবং উত্তরবঙ্গের উপভাষা বরেন্দ্রীর মধ্যে খুব অল্প পার্থক্য দেখা যায় কারণ এরা মূলত একই উপভাষা ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি,
কোচবিহার ,বাংলাদেশের রংপুর ,কাছাড়, শ্রী হট্ট (সিলেট) এবং ত্রিপুরা অঞ্চলের উপভাষা কামরুপি বা রাজবংশী।

দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গ তথা ঢাকা ,ময়মনসিংহ, ফরিদপুর,
বরিশাল ,খুলনা ,যশোহর ,নোয়াখালী ,চট্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলের উপভাষা হলেও সাধারণভাবে সমগ্র পূর্ব বাংলারই উপভাষা হল বঙ্গালী উপভাষা।

উপভাষার রূপের আবার দুটি ভাগ স্পষ্ট  রূপে
লক্ষণীয় 1) কথ্য উপভাষা 2) লেখ্য উপভাষা।

∆ দৈনন্দিন ভাব বিনিময়ের জন্য উচ্চারিত ভাষা হল কথ্য ভাষা বা মৌখিক ভাষা। তাই কথ্য  উপভাষাতেই আঞ্চলিক প্রভাব স্পষ্টরূপে ধরা পড়ে। পূর্বে আমরা কথ্য বা মৌখিক বা আঞ্চলিক উপভাষার প্রধান পাঁচটি রূপের পরিচয় জেনেছি এবার আমরা বাংলা লেখ্য বা সাহিত্যিক রুপটির পরিচয় জেনে নেব।
 
∆লেখ্য উপভাষা বা সাহিত্যিক উপভাষা আবার দুই ভাগে বিভক্ত ।যথা এক) পদ্য উপভাষা দুই) গদ্য উপভাষা।
বাংলায় গদ্য উপভাষার যাত্রা শুরু হয় পদ্যের হাত ধরে, যার প্রমান চর্যাপদ, এছাড়া শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ,মঙ্গলকাব্য ,অনুবাদ সাহিত্য, বৈষ্ণব পদাবলী প্রভৃতির মধ্যে গদ্য সাহিত্যের আদি ও মধ্যযুগের রূপ দৃষ্ট হয়।

অপরদিকে গদ্য উপভাষার আবার প্রধান দুটি রূপ দৃষ্ট হয়। যথা, 1) সাধু ভাষা এবং 2)চলিত ভাষা । বাংলা সাধু ভাষার যাত্রা শুরু হয় উনবিংশ শতকের একেবারে শুরুর দিকে ।গদ্য উপভাষার শুরু থেকে সাধু ভাষার যাত্রা শুরু হলেও ক্রমে তা কালের বিবর্তনে বাংলা সাহিত্য রচনার আসর থেকে বিদায় গ্রহণ করেছে, এবং সে স্থান দখল করেছে চলিত ভাষা। এবং বর্তমানে বাঙালির লেখা ও বলার একমাত্র ভাষা হয়ে উঠেছে চলিত ভাষা।

2 comments:

Powered by Blogger.